Contact For add

Wed, Jan 10 2018 - 11:23:08 AM BDT প্রচ্ছদ >> জাতীয়

The danger signal is in tourismবিপদ সংকেত পর্যটনে

বিপদ সংকেত পর্যটনে



সাগরিকা মন্ডল
বড় ধরনের বিপদ সংকেত দেশের পর্যটন শিল্পের জন্য। যারা উইন্টার সিজনে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার টেকনাফ এবং সেন্টমার্টিনে ঘুরতে যাবেন তাদের আগাম স্বাস্থ্য সতর্কবাণী নিয়েই ওখানে যেতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এইডস দিবসের এক আলোচনায় বলেছেন, দেশে এই রোগটি বিস্তার লাভ করার মতো পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে এই বিস্তার রোধ করা জরুরি। এজন্য তিনি স্বাস্থ্য সচেতন হতেও জাতিকে আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকারি বেসরকারি একাধিক তথ্য সূত্রে বলা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় শিবিরগুলোতে যে সব রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে তাদের মধ্যে এইডস রোগির সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বাড়ছে মরনঘাতি বিভিন্ন সংক্রমক রোগ।
কিন্তু তাতে পর্যটকদের কেন সমস্যা হবে? বাংলাদেশ ট্যুরস অপারেট এসোসিয়েশনের মহাসচিব তোফায়েল আহম্মেদ জানিয়েছেন, পর্যটকদের জন্য ভয়ের কারণ হচ্ছে এইডসের সংক্রমন।
তিনি বলেন, মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, টাকার জন্য, খাবারের জন্য অনেক অল্প বয়সী রোহিঙ্গা মহিলা দেহব্যবসা করছেন কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন এবং টেকনাফের হোটেলগুলোতে। এক শ্রেনির দালালদের মাধ্যমেই তারা এই অন্ধকার পথ বেছে নিয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেরই এইচআইভি পজেটিভ থাকতে পারে। ভয়ের কারণটা হচ্ছে ওখানে।
তিনি বলেন, এই শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কক্সবাজার টেকনাফ কিংবা সেন্টমার্টিনে লক্ষ লক্ষ পর্যটক আসছে। এদের মধ্যে যুবক বা তরুন পর্যটকের সংখ্যা ৭০ শতাংশ। তার মধ্যে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অনুপাত ৪০ শতাংশের বেশি। বাকি ৩০ শতাংশ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার শ্রমজীবী মানুষ। খুবই সস্তায় শারীরিক ও মানসিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে এদের অনেকেই শরীরে এইডস, গনোরিয়া, সিফলিসের মতো মারণঘাতি সংক্রমক রোগ গ্রহণ করতে পারে। যা পড়ে পুরো দেশে ছড়িয়ে যাওয়ার আশংকা থেকেই যাচ্ছে।

এরকম অসংখ্য রেহিঙ্গা এসেছে কক্সবাজার জেলার উখিয়া, টেকনাফ সীমান্তে। যারা এখন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় পেয়েছেন। ছবি : সংগৃহিত
পর্যটন মৌসুমে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চল সমূহে একটি মহা স্বাস্থ্য সতর্ক সংকেত জারি করা জরুরি বলে মনে করেন, সাবেক সামরিক চিকিৎসক, হলি টাইমসের উপদেষ্টা সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম এ সবুর। মিয়ানমারে ২ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ এইডসে আক্রান্ত। এই সংখ্যাটা আবার রাখাইনে বেশি ছিল। সেখান থেকে আনুমানিক ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। অতি সম্প্রতি এইডস রোগি সনাক্ত হয়েছে ৬৭ জন । যাদের অধিকাংশ নারী। কোন না কোন লিংকেজে এরা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করলে এই রোগটি ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তিনি এইডসের ভয়াবহতা সম্পর্কে পর্যটকদের সতর্ক করে বলেছেন, এই রোগ একবার হলে মৃত্যুই তার সর্বশেষ পরিণতি। এ জন্য সুস্থ্য ধারার বিনোদন উপভোগ করা ভাল।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শানীন আবদুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রতিবেশী মিয়ানমারে প্রতি ১ হাজার জনে ৮ জনের এইচআইভি পজিটিভ বলে ধরা হয়। সেই হিসেবে বাংলাদেশে যে পরিমাণ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে তাদের মধ্যে অন্তত ৪ হাজার এইডস রোগী থাকতে পারে।
জানা গেছে, ২০১২ সাল থেকে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজারে ১৬৭ জন এইডস রোগী পাওয়া গেছে। ৫৪ জনই রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা কক্সবাজার, চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পৃথিবীতে এইডস ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমার অন্যতম। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী মিয়ানমারে ২ লাখ ৩০ হাজার এইডস রোগি শনাক্ত হয়েছে। আর এইডস রোগে মারা গেছে ৭ হাজার ৮শ জনের মতো। এর মধ্যে রাখাইনের ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করছে। যাদের মধ্যে এইডস আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হওয়ার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, বাংলাদেশের জনগণ এইডস ঝুঁকি থেকে বের হতে পারছে না। তাই এ ব্যাপারে সরকারকেই বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
এদিকে শুধু এইডস নয়, ডিপথেরিয়া এবং হামের মতো জীবনঘাতী রোগগুলো ফের ছড়িয়ে পরায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে সরকারের মধ্যে। এই দুটি রোগ টিকা দান কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে সমূলে নির্মুল করা হয়েছিল। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরগুলোতে ডিপথেরিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো বলেছে, এই রোগ ফের বাংলাদেশে ছড়িয়ে যেতে পারে। এতোদিনে সরকার স্বাস্থ্য সেবাখাতে সংক্রমক ব্যধি নিরাময়ে যে সাফল্য অর্জন করেছিল তা ধূলায় মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পুলিশের পক্ষ থেকে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী পর্যটন স্পটগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এমনকি পর্যটকদের ওপর নজরদারিও চলছে। রোহিঙ্গার মতো কাউকে মনে হলে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে একই সঙ্গে হোটেল-মোটেলগুলোতে জোরদার করতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী।


 



Comments