Mon, Sep 16 2019 - 8:13:49 PM +06

ডিসেম্বরেই গোপালগঞ্জের ইডিসিএল কারখানায় বানিজ্যিকভাবে ওষুধ উৎপাদন শুরু


News Image
 
 
হলি টাইমস রিপোর্ট : 
এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল)  গোপালগঞ্জ  কারখানা থেকে আগামি ডিসেম্বর মাসেই এন্টিবায়েটিকের বানিজ্যিক উৎপাদন শুরু হচ্ছে। এ বছরের শুরুতে উদ্বোধনের পর এই ইউনিট ১২ ধরনের এন্টিবায়েটিক উৎপাদন করেছে। ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর ডা. এহসানুল কবির বলেছেন, আগামি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আরো ৩ টি ইউনিট বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করতে পারবে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইডিসিএলের এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের সর্ববৃহত ওষুধ তৈরির কারখানা। যেখান থেকে বছরে ৩ হাজার ৩শ’ মিলিয়ন জন্ম নিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন, ৩ হাজার ২ মিলিয়ন পিল, ১৮১ মিলিয়ন  পেনিসিলিন ট্যাবলেট, ২১৭ মিলিয়ন  পেনিসিলিন ক্যাপসুল উৎপাদন  সম্ভব হবে।
প্রফেসর ডা. এহসানুল কবির বলেছেন, আগামি বছরের জানুয়ারিতেই পর্যায়ক্রমে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও ইনজেকশন, আইভি ফ্লুইড,ইন্টারফেনাস ইনজেকশন, আয়রন ট্যাবলেট এবং সব ধরনের স্যালাইন তৈরির বাকি তিনটি ইউনিট চালু করা হবে। এই তিনটি ইউনিটও আগামি ডিসেম্বরে বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করবে। এতে দেশে ওষুধের চাহিদা  অনেকটাই পূরণ হবে এবং বিদেশে রফতানি করা যাবে।
তিনি জানান,যে কেন্দ্রবিন্দু দিয়ে পিরোজপুর,বাগেরহাট, মংলা এবং খুলনা থেকে সড়ক পথে যানবাহন ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করে  গোপালগঞ্জের সেই ঘোনাপাড়াতেই ইডিসিএলের বড় কারখানা স্থাপতি হয়েছে। এর পূর্বপাশেই রয়েছে নতুন রেল স্টেশন। 
ইডিসিএলের এই কারখানায় ৮শত লোকের কর্মসংস্থান হবে। শুধু তাই নয় এই শিল্প কারখানাকে ঘিরে আরো ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে এই অঞ্চলে। কাঁচামাল, খাবার, প্রিন্টিং, প্যাকেজিং, আবাসিক হোটেলসহ অনেকগুলো লিংকেজ শিল্পও গড়ে উঠবে। গোপালগঞ্জসহ দক্ষিণ  বাংলার আর্থ সামাজিক অবস্থায় অনেক পরিবর্তন আসবে।
ইডিসিএল এমডি প্রফেসর ডা. এহসানুল কবির : নিজস্ব ছবি  : হলি টাইমস 
 
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দীর্ঘবছরেও দক্ষিণ বাংলায় বিশেষ করে গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, পিরোজপুরে তেমন বড় কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় ইডিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর ডা. এহসানুল কবির সেই বন্ধ্যাত্ব ঘুচিয়ে নতুন যুগের সূচনা করলো।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ১৯৬২ সালে প্রথম যাত্রা শুরু করে ইডিসিএল। পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে জিপিএল (গভর্নমেন্ট ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড) নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৯ সালে এর নামকরণ হয় ফার্মাসিউটিক্যালস  প্রোডাকশন ইউনিট (পিপিইউ)। ১৯৮৩ সালে   দেশীয় ওষুধের চাহিদা  মেটাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইডিসিএল নামে এর যাত্রা শুরু হয়।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রাম বাংলার যে উন্নয়ন রূপকল্প তৈরি করেছিলেন তা-ই বাস্তবায়ন করে চলেছেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 
প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায়  ইডিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর ডা. এহসানুল কবির অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যেই এই কারখানাটির সব কাজ সম্পন্ন করেছেন। 
চারটি ইউনিটের অবকাঠামো আসবাবপত্র মেশিনারিজ সব ঠিকঠাক স্থাপতি হয়েছে। এখন চলছে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া। আগামি ডিসেম্বরের মধ্যেই তাও অনেকটা শেষ হয়ে যাবে। তারপরই পুরো চার ইউনিটের উৎপাদন শুরু হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ইডিসিএল মূলত: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি শিল্প কারখানা। এর বেশিরভাগ ওষুধই সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা ক্লিনিকে ব্যবহৃত হয়। উদ্ধৃত ওষুধ বিদেশেও রফতানি করার অনেক ক্ষেত্র তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আর এর সবই সম্ভব হয়েছে প্রফেসর ডা. এহসানুল কবির জগলুলের দক্ষ ব্যবস্থাপনায়। ইডিসিএল’র উৎপাদন, শৃঙ্খলা এবং বানিজ্যিক ব্যবস্থাপনায় তার নেতৃত্বে আমূল পরিবর্তন এসেছে। 
এর আগে যারা ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনায় ছিলেন তারা দক্ষিণ বাংলায় এমন একটি ওষুধ শিল্প কারখানা স্থাপনে ততটা আগ্রহ দেখায়নি। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছেন, ২০১০ সালে একনেক বৈঠকে এই শিল্প কারখানা স্থাপনের প্রকল্পটি পাস হয়। কিন্তু তখন ব্যবস্থাপনায় যারা ছিলেন তারা এর কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। ২০১৪ সালে প্রফেসর ডা. এহসানুল কবির ইডিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েই প্রথম মনোনিবেশ করেন গোপালগঞ্জে ইডিসিএলের কারখানা স্থাপনে। 
দেশে এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ¦রের প্রকোপ বাড়ছে। বিদেশে ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে এমন ভ্যাকসিন নেই এবং ক্রয় করাটা রোগিদের জন্য  যেমন ব্যয় বহুল এবং এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  দেশেই ডেঙ্গু ভ্যাকসিন তৈরি করতে চায় তাহলে গোপালগঞ্জে আরো একটি আলাদা প্রজেক্ট তৈরি করার চিন্তা ভাবনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রফেসর ডা. এহসানুল কবির। 
তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ অসুস্থ হলে যেন জীবন রক্ষার ওষুধ পায় সে জন্য সম্ভব সব ধরনের ওষুধ তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে ইডিসিল। ভবিষ্যতে ইডিসিএলের আরো কার্যপরিধি বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন